অভি আর ঐশী এতটা কাছে, যেন একে অপরের নিঃশ্বাসের উষ্ণতা গায়ে লাগছে।
অভি ফিসফিস করে বলল—
“ঐশী, এতটা কাছে তুমি আগে কখনো এসেছো?”
ঐশী চোখ নামিয়ে নিল, ঠোঁটে কাঁপন।
“না অভি দা… কিন্তু আজ এসেছি, কারণ আমি চাই আমার বুকের ভেতর তোমার ঠিকানা হোক।”
অভির বুক ধক করে উঠল। সে ধীরে ধীরে তার আঙুলগুলো ঐশীর হাতের ওপর রাখল। ঐশীর হাত কাঁপছিল, কিন্তু সরে গেল না। বরং শক্ত করে চেপে ধরল অভির হাত।
অভি (মৃদু হাসি নিয়ে):
“তোমার হাত তো কাঁপছে।”
ঐশী হালকা শ্বাস ছেড়ে উত্তর দিল—
“কাঁপছে ভয় থেকে নয়… তোমার ছোঁয়ার অপেক্ষা থেকে।”
অভি কিছু বলল না। শুধু ধীরে ঐশীর গাল স্পর্শ করল। আঙুলের ছোঁয়ায় ঐশী কেঁপে উঠল। চোখ বুজে ফিসফিস করে বলল—
“এভাবে ছুঁয়ো না অভি দা… আমি নিজেকে সামলাতে পারব না।”
অভি তার কানে ঝুঁকে ফিসফিস করল—
“তাহলে আজ নিজেকে আমাকে সঁপে দাও। আর অভি দা নয়। শুধু অভি।”
ঐশী মাথা তুলে তাকাল। তার চোখ আধভেজা, তবু ভেতরে জ্বলছে অনন্ত আকাঙ্ক্ষা।
“আমি তো সেই জন্যই এসেছি, অভি দা… তোমার কাছে নিজেকে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলতে।”
অভি আরও আবেগঘন হয়ে ঐশীর আরও অন্তরঙ্গ হয়ে বললো - "শুধু অভি"।
অভি আর থামতে পারল না। ধীরে ধীরে ঠোঁট রাখল ঐশীর ঠোঁটে। প্রথমে নরম, তারপর উষ্ণ, দীর্ঘ। ঐশীর হাত দুটো অভির কাঁধ জড়িয়ে ধরল, শরীর গলে গেল অভির বুকে।
চুম্বন ভাঙতেই ঐশী শ্বাস নিতে নিতে ফিসফিস করল—
“তুমি জানো না, আমি কতদিন ধরে এই মুহূর্তের জন্য বেঁচে আছি।”
অভি তার চুলে মুখ ডুবিয়ে দিল। চুলে ভিজে ফুলের সুবাস।
“ঐশী… তোমার গন্ধে আমি মাতাল হয়ে যাচ্ছি।”
ঐশী হেসে উঠল, বুকের ভেতর থেকে হালকা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।
“আমি চাই, তুমি আমার গায়ের প্রতিটি গন্ধ, প্রতিটি কাঁপন চিনে নাও। আজ থেকে আমি শুধু তোমার।”
অভি তার কাঁধ থেকে আঙুল সরিয়ে গলায় রাখল। ঐশীর শরীর শিহরন তুলল।
ঐশী (চোখ বুজে):
“অভি… তোমার আঙুল আমার গলায় নামলেই কেন মনে হয় বুকের ভেতর আগুন জ্বলে উঠছে?”
অভি ফিসফিস করে বলল—
“কারণ সেই আগুনে আমিও পুড়ছি।”
তারপর আবার ঠোঁট মিলল—এবার আরও গভীর, আরও দীর্ঘ। দু’জনেই যেন সময় ভুলে গেল।
অভি চুম্বনের ফাঁকে বলল—
“তুমি আমার রক্তে মিশে যাচ্ছো, ঐশী।”
ঐশী চোখ আধবোজা করে উত্তর দিল—
“তাহলে আজ থেকে আমি তোমার রক্ত, তোমার শ্বাস, তোমার শরীর।”
অভি তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ঐশী তার কোমল হাতের স্পর্শ অভির দুই গালে বুলিয়ে অভিকে নিজের বুকে টেনে নিয়ে তার দুই কোমল বাহুতে জাপটে ধরে অভির চুলে আঙুল বোলাতে লাগলো আর ফিসফিস করে বলল—
“আমায় আর হারিয়ো না, অভি। আমি তোমার ঘর।”
অভি ঐশীর বাহুর অন্তরঙ্গ উষ্ণতায় নিজেকে পুরো সপে দিলো ঐশীর শরীরে আর ফিসফিস করে বললো -
“তুমি শুধু ঘর নও, ঐশী… তুমি আমার ভোর, আমার রাত, আমার সবকিছু।”
ঘরের ভেতর ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ল। বাইরে পাখির কোলাহল, ভেতরে দু’জনার নিঃশব্দ মিলন—যেখানে প্রেম আর শরীর একসাথে গেঁথে গেল।
অভি অনেকক্ষণ বাহুবন্ধ হয়ে ঐশীর বুকে মাথা রেখে নিস্তব্ধ হয়ে বসে রইল। শুধু দু’জনের হৃদস্পন্দন যেন একসাথে তাল দিচ্ছিল।
হঠাৎ ঐশী আলতো করে অভির চুলে হাত রেখে হেসে বলল—
“তুমি জানো, এতক্ষণ আমি শ্বাসই নিতে ভুলে গিয়েছিলাম।”
অভি তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করল—
“তাহলে আজ থেকে প্রতিটি শ্বাস আমার ওপর ছেড়ে দাও।”
ঐশী চোখ নামিয়ে লাজুকভাবে হেসে ফেলল। তার গাল লালচে হয়ে উঠেছে।
“তুমি জানো না, এই মুহূর্তে আমি কতটা তোমার… আমি আর কিছুই ভয় পাই না।”
অভি ধীরে ধীরে তার আঙুল দিয়ে ঐশীর চুল সরিয়ে দিল। জানালার ভোরের আলোয় ঐশীর মুখ যেন দীপ্ত হচ্ছিল।
অভি (মৃদু স্বরে):
“তুমি এত সুন্দর… আমি ভেবেছিলাম আমার জীবনে আর আলো ফিরবে না। অথচ তুমি এসেছো ভোর হয়ে।”
ঐশী নরম গলায় উত্তর দিল—
“তাহলে আমাকে হারাতে দিও না। আমি চাই প্রতিটি সকাল তোমার জানালার সামনে দাঁড়িয়ে কাটাতে।”
অভি হেসে বলল—
“আজ তাহলে প্রথম সকাল শুরু হলো।”
অভি উঠতে চাইলে ঐশী তার হাত টেনে নিলো।
“কোথায় যাচ্ছো?”
অভি মৃদু হেসে উত্তর দিল—
“চা বানাতে। আজ তোমার জন্য বিশেষ চা।”
ঐশী হাসতে হাসতে বলল—
“তাহলে আমি বসে থাকব, আর তুমি আমাকে খাওয়াবে। আজ থেকে আমার চাও কেবল তোমার হাতের।”
অভি রান্নাঘরে গেল। কিছুক্ষণ পর ট্রেতে দুই কাপ ধোঁয়া ওঠা চা নিয়ে এলো। দু’জন জানালার পাশে বসল। বাইরে সূর্য উঠছে, ভিতরে তাদের চোখে নতুন দিনের আলো।
ঐশী কাপ হাতে নিয়ে তাকাল অভির দিকে—
“জানো, এই ভোরটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। মনে হচ্ছে আমি সত্যি তোমার ঘর পেয়েছি।”
অভি কাপ নামিয়ে ঐশীর হাত ধরল।
“এটা স্বপ্ন নয়, ঐশী। এটা আমাদের নতুন শুরু।”
ঐশী ধীরে মাথা নামিয়ে অভির কাঁধে হেলান দিল। জানালার বাইরে আলো ছড়িয়ে পড়ছে, আর তাদের ভেতরে জন্ম নিচ্ছে এক অনন্ত প্রতিশ্রুতি।
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন