মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পর্ব ৩৪: অদৃশ্য ফাঁদ

সোমবার বিকেল।

অভি একটি কলেজের গেস্ট লেকচার দিয়ে বেরোচ্ছে। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে এক মেসেজ—

“অভি, আজ সন্ধ্যায় আমার সাথে একটু দেখা করো। জরুরি।”

— সৃজিতা।

অভি এবার বিরক্ত হলো। সে ঠিক করল আর কোনো উত্তর দেবে না। ফোনটা সাইলেন্টে রেখে হেঁটে চলে যাচ্ছিল।

ঠিক তখনই রাস্তায় একটা কালো গাড়ি এসে থামল। গাড়ির ভেতর থেকে সৃজিতা। মুখে কৃত্রিম হাসি—

“অভি, প্লিজ… পাঁচ মিনিট সময় দাও।”

অভি থমকে দাঁড়াল এবং বিস্মিত হয়ে -

"তুমি কীকরে জানলে আমি আজ এই কলেজে এসেছি? স্পাই লাগিয়েছো আমার পেছনে?"

"একজন বিখ্যাত ব্যক্তির সম্মন্ধে জানার জন্য কোনও স্পাই লাগেনা অভি!" - সৃজিতা এক নিশ্বাসে বলে গেলো।

অভি একটু বিরক্ত হয়ে -

“তুমি কি আর বুঝতে পারছো না, আমি এসব চাই না?”

সৃজিতা গাড়ি থেকে নেমে এলো। চারপাশে লোকজন, তাই অভি খুব রুক্ষও হতে পারল না।

সৃজিতা নিচু গলায় শ্লেষাত্মক হাসিতে বলল—

“তোমার নতুন পছন্দের মানুষ যদি জেনে যায় সেই ভয় পাচ্ছো? আমি নিজে কিছু বলবো না, তবে অন্য কোনও ভাবে যদি জেনে যায়, তবে আমাকে দোষ দিওনা কিন্তু।"

একটু থেমে সৃজিতা আবার বলতে শুরু করলো - "তবে আমার কাছে তুমি আজও সেই অভি। আমার কাছে তোমার স্মৃতি মরেনি। জানো, আমার জীবনটা বাইরে থেকে যত সুন্দর দেখাক না কেন, ভেতরে আমি একেবারে একা। দিব্যেন্দু আমাকে সময় দেয় না, শুধু ব্যবসা আর পার্টি। এমনকি… আমাদের সম্পর্কও অনেকদিন ভেঙে গেছে। আমি শুধু মেয়েটার জন্য সংসার টেনে নিচ্ছি।”

অভি শান্ত স্বরে বলল—

“এটা শুনে আমি কি করতে পারি, তোমার সংসার, তোমার পরিবার তুমি কিভাবে ট্যাকল করবে, সেটা সম্পূর্ণ তোমার ব্যাপার। আর বারবার আমার কাছে এসে তুমি ঠিক কি চাইছো বলোতো? আবার আমাকে জড়িয়ে নিজের শূন্যতা ভরতে?”

সৃজিতা তার হাত ধরতে গেলো—

“আমি শুধু চাই তুমি মাঝে মাঝে আমার সাথে থেকো। পুরোনো বন্ধু হিসেবে হলেও। আমার শূন্য জীবনে একটু আলো আসুক। আমি জানি, তোমার একজন নতুন সখী এসেছে জীবনে, তাকে নিয়ে আমার কোনও আগ্রহও নেই। আর আমি সেটা ছিনিয়ে নিতেও চাই না। তবে আমি কথা দিচ্ছি, আমার আর তোমার সম্পর্ক আর মাঝে মাঝে মিট করার কথা ওই মেয়েটা আমার কাছ থেকে অন্তত জানবে না।”

অভি এবার হাতটা সরিয়ে নিল।

“না, তুমি ভুল ভাবছো। আমি ঐশীর কাছে আজ স্বচ্ছ, তার কাছে কিছু লুকোনো নেই। তুমি যদি সত্যিই ভেঙে পড়ো, সেটা তোমার নিজের সিদ্ধান্তের ফল। আমার কাছে এখন শুধু ঐশী।”

সৃজিতা হালকা কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল—

“অভি… তুমি কি ভুলে গেছো, আমি একদিন তোমাকে আমার সমস্ত স্বপ্নের ভেতর রেখেছিলাম? তুমি যদি সত্যিই আমাকে একেবারেই ভুলে যাও, তবে আমি ভেঙে পড়ব।”

অভি রাগ চেপে বলল—

“তুমি বুঝছো না সৃজিতা, এভাবে কাছে আসতে চাইলে তুমি শুধু আমার সম্পর্কই নয়, তোমার নিজের সংসারও ভেঙে ফেলবে। তোমার স্বামী, তোমার মেয়ে—তাদের কথা একবারও ভাবছো না? আর এভাবে কারোর মন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার পর ভবিষ্যতে তাকে বা তার মনকে জোরজবরদস্তি ফেরত পাওয়া যায়না।”

অভি এবার দ্রুত হেঁটে নিজের গাড়িতে বসে বেরিয়ে গেলো।

সৃজিতা দাঁড়িয়ে রইল রাস্তার পাশে, ঠোঁটে অদ্ভুত এক বাঁকা হাসি। নিজের মনে ফিসফিস করে বলল—

“ঐশী… তুমি ভেবেছো আমাকে হারিয়ে জিতে গেছো? ভুল করছো মেয়ে। অভি আমার ছিলো, এখনও আমি তাকে আমার ইচ্ছামতো টানতে পারি। যেকোনোভাবে।”

চলবে....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পর্ব ৩৪: অদৃশ্য ফাঁদ

সোমবার বিকেল। অভি একটি কলেজের গেস্ট লেকচার দিয়ে বেরোচ্ছে। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে এক মেসেজ— “অভি, আজ সন্ধ্যায় আমার সাথে একটু দেখা করো। জরুরি।” ...