অভি জানে, এই ডাক অস্বীকার করা সহজ নয়। কিন্তু তার মন যেন কোথাও গিয়ে জড়িয়ে আছে ঐশীর চোখে, তার স্নিগ্ধ হাসিতে।
ভোরবেলা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে অভি ভাবছিল— “আমি কি তবে আবার সেই অতীতে ফিরব? নাকি নতুন এক পথে হাঁটব?”
ঠিক তখনই কলিং বেল বাজলো। অভি চমকে উঠলো, এতো ভোরে কে এলো আবার। দরজা খুলতেই দেখলো ঐশী দাঁড়িয়ে আছে, চোখে লাল আভা—ঘুমহীন রাতের চিহ্ন স্পষ্ট।
অভি বেশ অবাক বিস্ময়ে - "তুমি? এতো ভোরে? ভেতরে এসো। কিছু কি হয়েছে?"
সে ধীরে ভিতরে এলো। অভি দরজা বন্ধ করে নিজের ঘরের দিকে নিয়ে গেলো। দুজনে ঘরে ঢুকলো, অভি দরজাটা ভেজিয়ে দিলো।
অভি এবার ঐশীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো - "এখন বলোতো কি হয়েছে? হঠাৎ এতো ভোরে?"
ঐশীর কণ্ঠে কাঁপন— “অভি দা, তুমি কি সত্যিই এখনও তাকে ভালোবাসো?”
অভি উত্তর দিলোনা। শুধু নিঃশ্বাস ফেলল। চোখ নামিয়ে রাখলো, যেন অপরাধী।
ঐশী আরও কাছে এলো। তার কণ্ঠ এবার দৃঢ়— “শোনো, ভালোবাসা অতীতের জিনিস নয়। ভালোবাসা মানে বর্তমান… আর ভবিষ্যত। আমি যদি তোমার বর্তমান হতে চাই, তুমি কি আমাকে সেই অধিকার দেবে না?”
অভি তাকাল তার চোখের দিকে। সে চোখে এক অদম্য টান, নির্ভেজাল বিশ্বাস।
“ঐশী… আমি ভয় পাই। ভয় পাই আবার যদি কেউ আমাকে ছেড়ে যায়?”
ঐশী অভির হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে নিজের বুকের কাছে রেখে মৃদু কণ্ঠে বলল— “আমি পালাতে আসিনি। আমি এসেছি তোমার সব ক্ষত সারাতে। যদি পৃথিবী তোমাকে ফেলে দেয়, তবু আমি থাকব। তুমি কি আমায় বিশ্বাস করবে না?”
অভির বুকের ভেতর জমে থাকা বরফ যেন গলতে লাগল। সে ধীরে ধীরে ঐশীর কাছে ঝুঁকল।
ঐশী অভির মাথা নিজের কাঁধে রেখে ফিসফিস করে বলল— “তুমি আমার আশ্রয়, অভি দা। আজ থেকে আমি শুধু তোমার, তুমি শুধু আমার।”
অভি চোখ বুজে ফেলল। অতীতের সমস্ত অভিমান, ব্যথা আর ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন এক মুহূর্তে যেন মিলিয়ে গেল। সে দু’হাত দিয়ে ঐশীকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ঐশী আবেগে অভির মাথা নিজের বুকের কাছে টেনে নিলো!
ঐশী তখন তার কানে মৃদু স্বরে বলল— “আমায় আর হারিয়ে ফেলো না অভি দা… আমি তোমার ঘর।”
সেই মুহূর্তে দু’জনের মধ্যে আর কোনো দেয়াল রইল না। কেবল এক নীরব আলিঙ্গন, যেখানে জন্ম নিল নতুন প্রেমের সূচনা।
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন