“অভি, আমি তোমার সঙ্গে শেষবার কথা বলতে চাই… কাল সন্ধ্যায় পুরোনো কফিহাউসে আসবে?”
এক মুহূর্তে কত বছরের স্মৃতি এসে বুকের ভেতর আঘাত করল! কিন্তু ঠোঁট শক্ত করে বন্ধ করে রাখল অভি।
ঐশী তার চোখের ভেতর তাকিয়ে ছিল—চুপচাপ, কিন্তু শঙ্কায় ভরা।
অন্যদিকে, দিব্যেন্দু বাড়ি ফেরার পরও রুমার মুখ ভার। শাশুড়ি ধীরে ধীরে বললেন—
“রুমা, সংসারে ছোটখাটো অশান্তি থাকতেই পারে। কিন্তু তুমি যে দিন দিন কেমন যেন বদলে যাচ্ছো!”
রুমা উত্তর দিল না।
শাশুড়ির কণ্ঠে মমতা, কিন্তু চোখে প্রশ্ন।
রুমার ভেতরে ঝড় চলছে। অভি আবার জীবনে ফিরে আসছে—এই চিন্তাটাই তাকে অস্থির করছে। তবে কি সে সত্যিই অভিকে ভুলতে পারেনি? তবে কি সে নিজের সংসারকে অবহেলা করছে? হঠাৎ রুমার চোখে জল এলো, রুমা তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নিল। কিন্তু হৃদয়ের ভেতর কথা যেন চাপা দেওয়া গেল না।
ঐশী সারা রাত ঘুমোতে পারল না।
অভির ভেতরে যে দ্বিধা—সেটা যেন তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
চোখ ভিজে উঠল।
সকাল হলো।
অভি চুপচাপ বইয়ের দোকানের দিকে হাঁটছে, অথচ মাথায় ঘুরছে একটাই প্রশ্ন—
“আমি কি যাব কফিহাউসে?”
রুমা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। শাড়ি পরে নিজেকে সাজাচ্ছে।
স্বামী দিব্যেন্দু কিছু টের না পেলেও, তার সাজের ভেতর যেন অদ্ভুত এক অস্থিরতা।
আজকের দেখা…
আজকের সিদ্ধান্ত…
সন্ধ্যা নামছে।
কোলকাতার কফিহাউসের আলো একে একে জ্বলতে শুরু করেছে।
চেয়ার-টেবিলগুলো ভরে উঠছে কলেজপড়ুয়া, কবি, শিল্পীর ভিড়ে।
এক কোণে খালি একটা টেবিল—যেন কারোর অপেক্ষা করছে।
কিন্তু অভি এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। যাবে, না যাবে না?
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন