দরজার ওপার থেকে ভেসে আসছে পুরোনো দিনের সুর, কফির গন্ধ। একসময় এই জায়গাটাই ছিল তার আর সৃজিতার আশ্রয়—আজ সেখানে ঢোকার সাহসই যেন হারিয়ে ফেলেছেন।
অভিনব গভীর শ্বাস নিলেন। মনে হচ্ছিল, প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে অতীতের বোঝা আরও ভারী হচ্ছে। অন্যদিকে, ভেতরে বসে রুমা অপেক্ষা করছে। ঠোঁট শুকিয়ে গেছে, কফির কাপে একবারও হাত দেয়নি।
সে ঘড়ি দেখে ফিসফিস করে বলল—
“অভি, তুমি আসবে তো?”
সময় গড়াচ্ছে। প্রতিটি মিনিট যেন বছরের মতো দীর্ঘ।
হঠাৎ ফোন কাঁপল অভিনবের হাতে।
প্রেরক: ঐশী
বার্তা: “তুমি কোথায়, অভি দা? আজ যেন অদ্ভুত অশান্তি লাগছে।”
বার্তাটা পড়েই অভিনবের বুক কেঁপে উঠল।
দুটি দিক তাকে টানছে—ভেতরে রুমা অপেক্ষা করছে, বাইরে ঐশীর টান।
সে দরজার দিকে এক পা বাড়িয়ে আবার থেমে গেল।
চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। ভেতরে রুমা চোখে জল নিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ সে অনুভব করল—দরজা কিঞ্চিৎ শব্দ করে খুলল কি না।
কিন্তু ঘুরে তাকাতেই দেখল… চেয়ারটা এখনও খালি।
তার বুকের ভেতর ভেঙে পড়ল প্রতীক্ষার পাহাড়। বাইরে দাঁড়িয়ে অভিনব শেষবারের মতো দরজার দিকে তাকালেন।
তারপর ধীরে ধীরে পিছন ফিরলেন।
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন