“অভি, আমি তোমার সঙ্গে শেষবার কথা বলতে চাই। আমাকে এড়িয়ে যেও না। কাল সন্ধ্যায় পুরোনো কফিহাউসে আসবে? এটা আমার শেষ অনুরোধ।”
শব্দগুলো যেন বুকের ভেতর ছুরি চালাল। শেষবার… কেন শেষবার? কেন এখন?
ঐশীর কথাগুলোও কানে বাজছিল—
“আমি যদি তোমার বর্তমান হতে চাই, তবে কি তুমিও আমাকে সেই সুযোগ দেবে না?”
অভিনব যেন দুই দিক থেকে টানা হচ্ছে। একদিকে অতীতের সেই বিশ্বাসঘাতকতা, অন্যদিকে বর্তমানের নির্মল টান।
পরদিন সকালে ঐশীর কলেজে এক সেমিনারে এসেও তিনি অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ। ঐশী বুঝল, তার ভেতরে দ্বন্দ্ব চলছে, কিন্তু কিছু না জিজ্ঞেস করে শুধু নীরব দৃষ্টিতে তাকে শক্তি দেওয়ার চেষ্টা করল।
এদিকে, রুমা (সৃজিতা) সংসারের ভেতর নিজের ভূমিকা সামলাচ্ছিল। শ্বশুর-শাশুড়ির যত্ন, মেয়েকে মানুষ করা—সবই যেন ঠিকঠাক চলছে বাইরে থেকে। কিন্তু তার অন্তরে তোলপাড়। গত রাতে পাঠানো সেই বার্তার কোনো উত্তর আসেনি। তবু মনে হচ্ছিল, অভিনব আসবেই। অন্তত একবার তাকে শোনাতে চায়, যে সে এখনও তাকে ভালোবাসে।
দিব্যেন্দু সকালে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেল, একবারও স্ত্রীর চোখে তাকাল না। শাশুড়ি হালকা গলায় বললেন—
“রুমা, সংসারের কষ্ট সহ্য করাই তো মেয়েদের নিয়তি। কিন্তু মনে রেখো, নিজের শক্তিটা কখনও হারাতে নেই।”
রুমা মৃদু হেসে মাথা নাড়ল। কিন্তু মনে মনে ফিসফিস করল—
“শক্তি নয়, আমি এখন শুধু মুক্তি চাই। অন্তত একবার, নিজের মতো করে।”
বিকেলের দিকে অভিনব কলেজ থেকে বেরোলেন। ফোনে ঐশীর কয়েকটা কল এল, কিন্তু তিনি ধরলেন না। তার পদক্ষেপ ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল সেই পুরোনো কফিহাউসের দিকে।
অন্যদিকে, রুমা বাড়িতে শাশুড়ির কাছে মেয়েকে রেখে নিজেই বেরিয়ে পড়ল। গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে রিকশা নিল।
মনে হচ্ছিল—আজকের দেখা তার জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে।
কফিহাউসের ভিতরে দু’টো অচেনা চেয়ার খালি পড়ে ছিল।
একদিকে অভিনব এগিয়ে আসছেন, অন্যদিকে রুমাও পৌঁছে যাচ্ছে ঠিক তখনই।
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন