শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পর্ব ১৬: সিদ্ধান্তের সীমানা

ঐশীর চোখের গভীর টানে অভিনব যেন আটকে গেল।
তার বুকের ভেতর ঝড়—কিন্তু ঠোঁটে নীরবতা।

একটু দূরে হাওয়ার ঝাপটা আসতেই মনে হল যেন শহরের সমস্ত আলো নিভে যাচ্ছে, আর শুধু ঐশীর কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে—
“তুমি যদি আজও চুপ থাকো, আমি বুঝব তুমি আমাকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইছো।”

অভিনব মুখ তুললেন। তার চোখে এক অদ্ভুত ক্লান্তি, কিন্তু কোথাও এক বিন্দু আলোও আছে।
“ঐশী… আমি তোমাকে আঘাত করতে চাই না। কিন্তু আমি এখনও আমার অতীতের বেড়াজালে বন্দি। সেই বেড়াজাল, আমার জীবন থেকে চলে গিয়েও… আমাকে আজও মুক্তি দেয়নি। তাই আমার প্রেমের প্রতি এক ভীতি তৈরী হয়েছে। সেটা মন থেকে মুছে ফেলতে পারেনি আমার মন।”

ঐশী তার হাত আরও শক্ত করে চেপে ধরল।
“অভি দা, অতীত মানেই তো সমাধানহীন বোঝা নয়। আমি যদি তোমার বর্তমান হতে চাই, তবে কি তুমিও আমাকে সেই সুযোগ দেবে না?”

অভিনব কিছু বলার আগেই, হঠাৎ তার ফোনে ভেসে উঠল একটি বার্তা—
প্রেরক: সৃজিতা
বার্তা: “অভি, আমি তোমার সঙ্গে শেষবার কথা বলতে চাই। আমাকে এড়িয়ে যেও না। কাল সন্ধ্যায় পুরোনো কফিহাউসে আসবে? এটা আমার শেষ অনুরোধ।”

অভিনবের বুক ধক করে উঠল। অভিনব একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়লো।

ঐশীর চোখে তখন অদ্ভুত এক শঙ্কা। ঐশী জিজ্ঞেস করাতে বললো, "সেই বেড়াজাল।"

ঐশী ধীরে বলল—
“দেখলে তো? ভাগ্যও যেন তোমাকে পরীক্ষা নিতে চাইছে।”

নিঃশব্দ আকাশে ভেসে এল অচেনা এক অগ্নিপরীক্ষার ছায়া।

অন্যদিকে…

দিব্যেন্দু বাড়ি ফিরল অনেক রাত করে। রুমা (সৃজিতার ডাক নাম) তাকে চুপচাপ দেখছিল। বাড়ির নিস্তব্ধতা যেন শূন্যতার মতো ঘিরে ধরেছে।

দিব্যেন্দু হঠাৎ বিরক্ত গলায় বলল—
“তুমি সবসময় মুখ ভার করে থাকো কেন? সংসার কি শুধু আমার দায়িত্ব?”

রুমার গলায় ক্ষোভ আর কান্না মিশে গেল—
“সংসার যদি শুধু দায়িত্ব হয়, তবে ভালোবাসা কোথায় দিব্যেন্দু? তুমি কি আর কোনোদিন সেটা খুঁজে দেখেছ?”

চলবে....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পর্ব ৩৪: অদৃশ্য ফাঁদ

সোমবার বিকেল। অভি একটি কলেজের গেস্ট লেকচার দিয়ে বেরোচ্ছে। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে এক মেসেজ— “অভি, আজ সন্ধ্যায় আমার সাথে একটু দেখা করো। জরুরি।” ...