বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পর্ব ১৫: অগ্নিপরীক্ষা

সেদিন সন্ধ্যায় সাহিত্য আলোচনা শেষে সবাই যখন বিদায় নিচ্ছে, ঐশী হঠাৎ অভিনবের হাত ধরে ফিসফিস করে বলল—
“স্যার, একটু আমার সঙ্গে আসবেন? আপনাকে কিছু দেখাতে চাই।”

অভিনব প্রথমে দ্বিধা করলেও তার চোখের দৃঢ়তা দেখে রাজি হলেন। ঐশী তাকে নিয়ে গেল কলেজের লাইব্রেরীর ছাদে।
শহরের আলো ঝলমলে রাত, দূরে গঙ্গার ওপারে অন্ধকার মিশে গেছে আকাশের সঙ্গে।

ঐশী ধীরে ধীরে বলল—
“আপনার লেখা পড়ে আমি শুধু সাহিত্য শিখিনি, শিখেছি বাঁচতে। আপনি জানেন, আমার কাছে আপনি শুধু সাহিত্যিক নন… আপনি আমার পৃথিবী।”

অভিনব চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলো। মনে হচ্ছিল, বাতাসে একটা অদৃশ্য স্রোত বইছে—যেখানে আবেগের টান অস্বীকার করা অসম্ভব।

হঠাৎ ঐশী এগিয়ে এসে তার দুই হাত নিজের হাতে ধরে ফেলল।
“আমি জানি, আপনার ভেতরে অনেক দ্বিধা, অনেক অতীতের বোঝা আছে। কিন্তু আমি চাই, তুমি আমাকে একবার সুযোগ দাও। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আমি তোমার সব শূন্যতা ভরে দেব।”

অভিনব হতবাক। তার বুকের ভেতর ঝড় বইছে। মনে পড়ছে সৃজিতার বার্তা, সেই নীরবতা। আর অন্যদিকে ঐশীর চোখে এক অদম্য আকর্ষণ, এক নিবিড় ভালোবাসা।

এক মুহূর্তের জন্য অভিনব ঐশীর হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইছিলেন। কিন্তু তার গলার স্বর কেঁপে উঠল - 
“ঐশী, তুমি জানো না তুমি কী চাইছো। আমার জীবন সহজ নয়।”

ঐশী দৃঢ় দৃষ্টিতে উত্তর দিল—
“সহজ না হলেও আমি আছি, অভি দা। আমি শুধু তোমার সঙ্গে লড়তে চাই, পালাতে নয়।”

নীরবতা ভরে উঠল চারপাশে। শহরের আলো যেন দু’জনকে ঘিরে ফেলেছে। অভিনবের ভেতরে তখন দ্বন্দ্বের আগুন জ্বলছে—একদিকে অতীতের প্রতিধ্বনি, অন্যদিকে বর্তমানের আকর্ষণ।

চলবে....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পর্ব ৩৪: অদৃশ্য ফাঁদ

সোমবার বিকেল। অভি একটি কলেজের গেস্ট লেকচার দিয়ে বেরোচ্ছে। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে এক মেসেজ— “অভি, আজ সন্ধ্যায় আমার সাথে একটু দেখা করো। জরুরি।” ...