বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পর্ব ১৪: নীরবতার দেওয়াল

রাতের অন্ধকার পেরিয়ে ভোর হলো।
সৃজিতা বারবার ফোন হাতে তুলে নিচ্ছিল, আবার নামিয়ে রাখছিল।
বার্তা পাঠানোর পর থেকে কতবার সে চেক করেছে—
"অভি কি উত্তর দিল?"

কিন্তু পর্দা নীরব।
কোনো উত্তর নেই।

সকালে চা খেতে খেতে দিব্যেন্দু বলল,
“আজ রাতে হয়তো ফিরতে পারব না। নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত আছি।”
সৃজিতা নিঃশব্দে মাথা নাড়ল। তার কণ্ঠে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

ভেতরে জমে উঠছে এক অদ্ভুত অভিমান।
"অভি কি এতোটাই বদলে গেছে? নাকি আমি তার জীবনে আর কোনো মানেই রাখি না?"

মেয়েটা ঘুম থেকে উঠে তার আঁচল ধরে খেলতে লাগল।
সেই ছোট্ট স্পর্শে বুক ভরে এলো ভালোবাসায়।
কিন্তু মনে হলো—এই ভালোবাসার মাঝেও যে মানুষটাকে সে খুঁজছে,
সে নেই।

সন্ধ্যায় একা ঘরে বসে আবার ফোন খুলল।
অভিনবের প্রোফাইল ছবির দিকে তাকিয়ে রইল।
কত চেনা সেই মুখ, অথচ কত দূরে!

নিজের ডায়েরিতে লিখল—
“তার নীরবতা আজ আমার প্রশ্নের থেকেও ভারী হয়ে গেল।
হয়তো আমি দেরি করে ফেলেছি…
তবু, কেন মনে হচ্ছে, আমাদের গল্প এখনও অসমাপ্ত?”

চোখ ভিজে উঠল অশ্রুতে।
সে চুপচাপ লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়ল।
কিন্তু বুকের ভেতরে যেন জ্বলছে প্রশ্নের আগুন—
“অভি, তুমি কি সত্যিই আমাকে ভুলে গেলে?”

অন্যদিকে—
অভিনব খাতার পাতায় লিখে যাচ্ছে নতুন গল্প। ঐশীর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের স্মৃতি তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে।
কিন্তু প্রতিটি শব্দের ফাঁকে ভেসে উঠছে সেই এক নাম—
সৃজিতা।

চলবে....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পর্ব ৩৪: অদৃশ্য ফাঁদ

সোমবার বিকেল। অভি একটি কলেজের গেস্ট লেকচার দিয়ে বেরোচ্ছে। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে এক মেসেজ— “অভি, আজ সন্ধ্যায় আমার সাথে একটু দেখা করো। জরুরি।” ...