বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পর্ব ১৩: নীরবতার উত্তর

অভিনবের ফোনের স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে সেই নাম—
“সৃজিতা”।

চোখ যেন বিশ্বাসই করতে চাইছে না। বছরের পর বছর পর এভাবে হঠাৎ?
সে ধীরে ধীরে বার্তাটা পড়ল —
“আমাদের গল্প কি সত্যিই শেষ হয়ে গেছে?”

অভিনবের বুকের ভেতর যেন বজ্রপাত হলো। খাতার কলম পড়ে গেল মেঝেতে। চোখ ভিজে উঠল অদ্ভুত আবেগে—
একসঙ্গে বেদনা, ভালোবাসা, আর অপূরণীয় শূন্যতা।

মুহূর্তে মনে পড়ল সেই দিনগুলো—
অভিনবর বাড়িতে টিউশন পড়ানোর সময় সৃজিতার হাসি, কবিতার প্রতি তার অদ্ভুত টান, আর একদিনের বিদায়—
যেখানে অভিনব শুধু দাঁড়িয়ে ছিল, কিছুই বলতে পারেনি।
মুঠোফোন হাতে কাঁপতে কাঁপতে টাইপ করতে শুরু করল—
“তুমি হঠাৎ এখন কেন মনে পড়লে? আমিও কি ভুলে গিয়েছিলাম তোমাকে?”

কিন্তু পাঠানোর আগেই থেমে গেল। ঐশীর হাসি হঠাৎ ভেসে উঠল মনের পর্দায়। তার সাহসী স্বীকারোক্তি, তার স্বপ্নময় চোখ।

অভিনব হাত থরথর করে কাঁপছিল। বার্তাটা মুছে চোখ বুজে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
"আমি যদি উত্তর দিই, আমার অতীত আবার আমায় গ্রাস করবে। কিন্তু যদি না দিই, তবে কি এই নীরবতাই তার কাছে উত্তর হয়ে থাকবে?"

ফোনটা টেবিলে রেখে সে জানলার দিকে তাকাল। চাঁদের আলো এসে পড়েছে ঘরের মেঝেতে। মনে হলো, আলোটা যেমন ধরা যায় না, তেমনি তার অতীতও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

ফোনে নতুন মেসেজের টোন বেজে উঠল—
ঐশী লিখেছে,
“স্যার, আজ সারাদিন শুধু আপনাকেই ভেবেছি।”

অভিনব অসহায়ের মতো দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল।
তার মনের ভেতর তখন দ্বিধার এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

চলবে....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পর্ব ৩৪: অদৃশ্য ফাঁদ

সোমবার বিকেল। অভি একটি কলেজের গেস্ট লেকচার দিয়ে বেরোচ্ছে। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে এক মেসেজ— “অভি, আজ সন্ধ্যায় আমার সাথে একটু দেখা করো। জরুরি।” ...