শরীরের ক্লান্তি থাকলেও ঘুম নেই। বুকের ভেতর যেন অস্থিরতা জমে উঠছে।
বিছানার পাশের টেবিলে রাখা ডায়েরি খুলল সে। পাতা ভরে আছে অভির স্মৃতিতে—
কবিতা, আঁকিবুঁকি, আর কিছু অপূর্ণ প্রশ্ন।
সে লিখতে শুরু করল—
"তুমি কি জানো, আমি এখনও তোমার লেখা পড়ে কাঁদি?
তুমি কি জানো, আমার মেয়ের চোখে কখনও কখনও তোমার ছায়া খুঁজে পাই?"
লিখতে লিখতেই হাত থেমে যায়।
মনে হলো, এইসব শুধু ডায়েরির পাতায় আটকে রাখলে চলবে না।
দ্বিধা ভেঙে ফোন হাতে তুলে নিল সে।
অভিনবের নাম্বার এখনও মনে আছে—বছরের পর বছর কেটে গেলেও ভুলতে পারেনি।
আঙুল কাঁপছিল।
অনেকবার টাইপ করে আবার মুছে দিল।
অবশেষে সাহস সঞ্চয় করে লিখল—
“অভি… আমি জানি, এই বার্তা হয়তো তোমার কাছে অপ্রত্যাশিত।
কিন্তু একটা প্রশ্ন আজও আমাকে তাড়া করে—
আমাদের গল্প কি সত্যিই শেষ হয়ে গেছে?”
বার্তা পাঠানোর বোতামে চাপ দিল সে।
এক মুহূর্তের জন্য বুক থমকে গেল, তারপর অদ্ভুত হালকা লাগল।
মেয়েটা পাশেই ঘুমিয়ে আছে, তার নিঃশ্বাসের শব্দ যেন মায়ার পরশ।
সৃজিতা ধীরে বিছানায় শুয়ে পড়ল। চোখ বুজতেই বুকের ভেতর ফিসফিস করে উঠল—
“অভি, তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?”
অন্যদিকে—
অভিনব তখনও ঘুমোতে পারেনি। খাতার পাতায় কলম ঘুরছিল।
হঠাৎ ফোনের আলো জ্বলে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল সেই নাম—সৃজিতা।
অভিনব স্তব্ধ হয়ে গেলেন।
চোখে জল ভরে উঠল।
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন