“স্যার, একটা কথা ছিলো। একটু আমার সাথে হাঁটবেন? এত সুন্দর আবহাওয়া, নষ্ট করতে ইচ্ছে করছে না।”
অভিনব মাথা নাড়লেন। দু’জনে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছাল গঙ্গার ঘাটে। বাতাসে শীতল হাওয়া, দূরে দীপশিখার মতো ভেসে যাচ্ছে নৌকার আলো।
ঐশী ধীরে ধীরে বলল—
“আপনি জানেন, আপনার কাছে এলে আমার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত কাঁপুনি হয়। মনে হয়, এই পৃথিবীতে আর কিছুই চাই না।”
অভিনব এক মুহূর্ত চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তার চোখে দীপ্তি, ঠোঁটে কাঁপা হাসি—এক অনাবিল তরুণ আকর্ষণ।
হঠাৎ একটা বাতাসে ঐশীর খোলা চুল উড়ে এসে ছুঁয়ে গেল অভিনবের মুখে।
অভিনব হাত বাড়িয়ে চুল সরিয়ে দিতে গিয়েই থেমে গেলেন।
ঐশী ধীরে ফিসফিস করে বলল—
“ভয় পাচ্ছেন কেন, স্যার? আমি তো শুধু আপনাকেই চাই…”
অভিনবের বুকের ভেতর দ্বন্দ্ব তীব্র হলো। সৃজিতা… অতীত… দায়িত্ব…
কিন্তু ঐশীর চোখের টানে যেন সবকিছু মুহূর্তে গলে যাচ্ছে।
অভিনব অবশেষে এক নিঃশ্বাসে তার হাত ধরে ফেললেন।
দু’জনের চোখে চোখ, অদ্ভুত নীরবতা।
মনে হলো, চারপাশের পৃথিবী থেমে গেছে।
ঐশীর কণ্ঠে এক নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি—
“এই মুহূর্তটা চাই, শুধু আমার জন্য।”
অভিনব আর কিছু বললো না।
তাদের মাঝের দূরত্ব অদৃশ্য হয়ে গেল, যেন দু’জনেই ডুবে গেলেন এক অনুচ্চারিত উষ্ণতায়।
কিন্তু ঠিক সেই সময় দূরে ভেসে এলো মন্দিরের ঘণ্টার শব্দ।
অভিনব হঠাৎ যেন বাস্তবে ফিরে এলেন। হাত ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।
মনে মনে বললেন—
“আমি কি ভুল করছি? নাকি এই ভুলটাই আমার বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা?”
ঐশীর চোখে তখন এক অদ্ভুত ঝলক—
অর্ধেক ভালোবাসা, অর্ধেক দাবি।
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন