বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পর্ব ১০: প্রতিধ্বনি বনাম বর্তমান

অভিনবের ঘরে টেবিলল্যাম্পের মৃদু আলো। চারপাশে বইয়ের স্তূপ, খাতার পাতা খোলা। অথচ কলম চলছে না।
ঐশীর সাহসী স্বীকারোক্তি বারবার কানে বাজছে—
"আমি আপনাকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসি।"

অভিনব চোখ বন্ধ করতেই ভেসে ওঠে আরেক মুখ—
সৃজিতা।
বইমেলার সেই দৃশ্য, কোলে ছোট্ট মেয়ে।
সেই চোখ দুটোতে এখনও কি তার জন্য কোনো কথা লুকিয়ে আছে?

অভিনব নিঃশ্বাস ছাড়ল।
"ঐশী তরুণী, তার ভবিষ্যৎ এখনও গড়ার বাকি। আমি কি তাকে নিজের নিঃসঙ্গতার ভরসা বানাবো? আর সৃজিতা… যাকে হারিয়েছি, তবুও ভুলতে পারিনি।"

খাতার পাতায় লিখতে শুরু করল—
“কিছু সম্পর্ক একান্ত প্রয়োজনীয় অথচ অসম্ভব।
কিছু সম্পর্ক অসম্পূর্ণ হলেও অনন্ত।”

ঠিক তখনই ফোনে মেসেজ আসে—ঐশী লিখেছে,
“স্যার, আপনার চোখের নীরবতা আমাকে তাড়া করছে। জানেন, আমি স্বপ্ন দেখেছি—আপনার সঙ্গে একসঙ্গে লিখছি, হাঁটছি, বাঁচছি।”

অভিনবের বুক কেঁপে ওঠে।
সে দ্রুত ফোন সরিয়ে রাখে।
কিন্তু মনে মনে স্বীকার করল—ঐশীর নিষ্পাপ ভালোবাসা তাকে অদ্ভুত উষ্ণতায় ভরিয়ে তুলছে।

অন্যদিকে, সৃজিতা—
রাতের নির্জনতায় দিব্যেন্দুর পাশে শুয়ে থেকেও হাহাকার অনুভব করছে। শরীরের ঘনিষ্ঠতা ভরপুর থাকলেও মন যেন দূরে সরে গেছে।
সে চুপচাপ নিজের ডায়েরি খুলে লিখছে—
“আমার ভেতরে যে শূন্যতা বাড়ছে, তার নাম কি অভিনব?”

ঐশী এদিকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল খোলা রাখে।
তার চোখে দীপ্ত স্বপ্ন—
“অভি স্যার যতই অতীতের ছায়ায় বাঁধা থাকুন না কেন, আমি তাকে নতুন ভোর দেখাবো।”

অভিনব আবার খাতার পাতায় লিখে চলে—
“প্রতিধ্বনির মতো একটা নাম আমায় তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
কিন্তু যদি নতুন কোনো সুর এসে ঢেকে দেয় সেই প্রতিধ্বনিকে?
আমি কি শুনব সেই নতুন গান?”

চলবে....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পর্ব ৩৪: অদৃশ্য ফাঁদ

সোমবার বিকেল। অভি একটি কলেজের গেস্ট লেকচার দিয়ে বেরোচ্ছে। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে এক মেসেজ— “অভি, আজ সন্ধ্যায় আমার সাথে একটু দেখা করো। জরুরি।” ...