তার মনে হয়, ভিড়ের আড়ালে নয়—অভি স্যারের চোখে চোখ রেখে কথা বলতেই হবে।
এক বিকেলে সে সাহস সঞ্চয় করে অভিনবকে মেসেজ পাঠালো - “স্যার, কাল বিকেলে কলেজের লাইব্রেরীর পেছনে পুরনো অশ্বত্থ গাছটার কাছে একটু দেখা করবেন? আমার কিছু বলার আছে।”
অভিনব প্রথমে দ্বিধায় পড়লেন। “একজন দ্বিতীয় বর্ষের কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে একান্তে দেখা করা ঠিক হবে তো?”
তবুও মনের গহীনে কৌতূহল জন্ম নিল।
পরদিন বিকেলে—
রোদ ঝিমিয়ে এসেছে। নির্জন অশ্বত্থগাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছে ঐশী। সাদা সালোয়ার-কামিজে তার সরল সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল।
অভিনব পৌঁছাতেই সে একবার গভীরভাবে তাকাল, তারপর বলল— “স্যার, আমি শুধু ভক্ত নই… আমি আপনাকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসি।”
অভিনব স্তব্ধ।
কণ্ঠ শুকিয়ে এল।
“ঐশী, তুমি কি জানো তুমি কী বলছ? আমাদের মধ্যে অনেক দূরত্ব… বয়স, অভিজ্ঞতা—সবকিছু।”
ঐশী দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিল,
“দূরত্ব থাকলে থাকুক। আমার মনে হয়, আপনি একা। আর আমি চাই আপনার পাশে থাকতে। সেটা যদি ভালোবাসা হয়, হোক।”
অভিনব চোখ ফিরিয়ে নিলেন। বুকের ভেতর অদ্ভুত আলোড়ন।
“আমি কি আবার আবেগে ভেসে যাচ্ছি? নাকি সত্যিই এই মেয়েটি আমাকে নতুন জীবন দেখাচ্ছে?”
ঐশী এগিয়ে এসে ধীরে ধীরে বলল—
“আপনার গল্পে সব চরিত্র অসমাপ্ত থাকে না, স্যার। আমি হবো সেই চরিত্র, যে আপনার গল্পকে পূর্ণ করবে।”
অভিনব চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন।
তার ভেতরের দ্বন্দ্ব যেন আরও গভীর হলো—অতীতের প্রতিধ্বনি বনাম বর্তমানের আকর্ষণ।
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন