“স্যার, একটু সময় পাবেন?”
অভিনব থমকে দাঁড়ালেন। ক্যাফের ভিড় থেকে তারা বেরিয়ে এল পার্ক স্ট্রীটের গাছতলায়। শরতের হালকা বাতাসে উড়ে আসছে শুকনো পাতা।
“তুমি একা?” —অভি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।
ঐশী মুচকি হাসল,
“হ্যাঁ, আজ ইচ্ছে হলো শুধু আপনার সঙ্গে গল্প করতে। সবসময়ই তো ভিড় থাকে, আপনার কাছে খোলা মনে কিছু বলা যায় না।”
দু’জনে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছাল কাছের এক নিরিবিলি চায়ের দোকানে। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ঐশী হঠাৎ বলল—
“আপনার চোখে এমন একটা অদ্ভুত একাকীত্ব আছে, স্যার। মনে হয় যেন অনেক ভিড়ের মধ্যেও আপনি একা।”
অভিনব চুপ করে রইলেন। এই কথাটা আগে কেউ বলেনি, অথচ এই মেয়েটি প্রথম দেখাতেই তার অন্তরটা পড়ে ফেলছে।
কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন,
“একজন লেখক সবসময়ই একা থাকে, ঐশী। কারণ তার ভেতরে এমন কিছু স্মৃতি থাকে, যা কারও সঙ্গে ভাগ করা যায় না।”
ঐশী চোখ মেলে তাকাল—
“তাহলে আমাকেও আপনার সেই স্মৃতির ভেতরে ঢুকতে দেবেন না? আমি কি কেবল পাঠক হয়েই থাকব?”
অভিনব কিছু বললেন না। শুধু তার দিকে তাকালেন। ঐশীর চোখে অদ্ভুত দীপ্তি, তারুণ্যের নির্ভীক আকর্ষণ। এক মুহূর্তের জন্য অভির মনে হলো, তিনি যেন আবার বেঁচে উঠছেন।
কিন্তু ঠিক তখনই মনের গহীনে ভেসে উঠল সৃজিতার মুখ।
কোলের ছোট্ট মেয়েটি, ভিড়ের মাঝে দাঁড়ানো সেই চিরচেনা অবয়ব।
অভি দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলেন।
ঐশী টের পেলেন, তবুও মৃদু স্বরে বলল—
“আপনি চাইলে আমি কেবল আপনার লেখা পড়ে বাঁচব, কিন্তু মনে রাখবেন… আমি আপনাকে শুধু লেখক হিসেবে দেখি না।”
অভিনব নিঃশব্দে চায়ের কাপ নামিয়ে রাখলেন।
তার বুকের ভেতরে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব দোলা দিচ্ছে—
“আমি কি আবার আবেগে ভাসছি? নাকি সত্যিই নতুন করে শুরু করার সময় এসেছে?”
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন