একদিকে সৃজিতা, যে একসময় তার কবিতার প্রতিটি লাইনে শ্বাস নিত।
অন্যদিকে ঐশী, যার চোখে আছে নতুন জীবনের দীপ্তি, ভরসার প্রতিশ্রুতি।
অভিনবের বুকের ভেতর কাঁপন জাগে।
“আমি কি আবার আবেগের জালে জড়িয়ে পড়ছি? নাকি এটা নতুন করে বাঁচার সুযোগ?”
সেই মুহূর্তে ফোনে মেসেজ আসে। ঐশী লিখেছে—
“স্যার, আজ রাতে আপনার লেখা পড়তে পড়তে হঠাৎ মনে হলো, মানুষ যদি বারবার হেরে যায়, তবুও নতুন লড়াই শুরু করতে পারে। আপনি আমার কাছে সেই সাহস।”
মেসেজ পড়ে অভিনবের ভেতরে উষ্ণতা ছড়িয়ে যায়।
কিন্তু ঠিক তখনই মনে পড়ে যায় বইমেলায় দেখা সেই দৃশ্য—
সৃজিতা, কোলে ছোট্ট মেয়ে।
চোখাচোখি না হলেও অভি বুঝেছিল, সেই নারী আজও তার ভেতরে রয়ে গেছে।
সে খাতার পাতায় লিখে ফেলে—
“মানুষের হৃদয় হয়তো নদীর মতো—দুই তীরে দুই রূপ। এক তীরে অতীতের বালি, অন্য তীরে নতুন সবুজ। কিন্তু মাঝের স্রোতটা? তা চিরকাল দ্বিধায় ভাসতে থাকে।”
অন্যদিকে সৃজিতা—
রাতের নির্জনতায় স্বামীর পাশে শুয়ে থেকেও ভীষণ একা। দিব্যেন্দুর গায়ে এখনো ব্যবসার ক্লান্তি লেগে আছে, তবুও সে হঠাৎ হাত বাড়িয়ে স্ত্রীর শরীর জড়িয়ে ধরে।
এক মুহূর্তের জন্য সৃজিতার শরীর কেঁপে ওঠে—দাম্পত্যের উষ্ণতা এখনও আছে তাদের মধ্যে, শারীরিকভাবে তারা কাছে আসে, একে অপরকে অনুভব করে।
কিন্তু সৃজিতার মনে তবুও অদ্ভুত শূন্যতা থেকে যায়।
যেন শরীর মিলে গেলেও, আত্মা দূরে দাঁড়িয়ে রইল।
দিব্যেন্দু কিছুটা তৃপ্তির হাসি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
কিন্তু সৃজিতা নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকে সিলিংয়ের দিকে—
“এ সম্পর্ক কি শুধু শরীরের বাঁধনে বেঁচে আছে? হৃদয়ের বন্ধন কি সত্যিই আর নেই?”
তার বুকের ভেতর ফিসফিস করে ওঠে—
“আমি কি কখনও আবার অভিকে খুঁজে নিতে পারব?”
ঐশী এদিকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল বাঁধছে।
চোখে উজ্জ্বল স্বপ্ন, মনে দৃঢ় সংকল্প।
“অভি স্যার যতই অতীতের ছায়ায় ডুবে থাকুন না কেন, আমি তাকে আলোয় আনব।”
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন