বছরখানেক কেটে গেছে।
কোনও এক শীতকালে ময়দান চত্বরে বইমেলার ব্যস্ততা শেষ হতে না হতেই অভিনবের দিনগুলো ভরে উঠল নতুন আমন্ত্রণে—সাহিত্যসভা, আলোচনাচক্র, কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এক বিকেলে উত্তর কোলকাতার এক কলেজে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রথম দেখা তার সঙ্গে—
ঐশী। কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বেশ সুন্দরী, ছিপছিপে চেহারা, শাড়ির আড়ালে যেন তারুণ্যের স্বচ্ছ দীপ্তি। চোখে সারল্যের দীপ্তি, কণ্ঠে অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস। প্রশ্নোত্তর পর্বে সে হঠাৎ জিজ্ঞেস করে বসে—
“স্যার, আপনার গল্পে যে চরিত্ররা অসমাপ্ত থেকে যায়, তারা কি বাস্তবের মানুষ?”
অভিনব কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ। মনের গোপন কক্ষ যেন কেউ হঠাৎ খুলে ফেলল। সে শুধু হেসে বলল— “অসমাপ্ততাই তো জীবনের স্বাভাবিক রূপ। হয়তো আমরাই সেই চরিত্র, যারা নিজেদের গল্প শেষ করতে পারিনি।”
ঐশীর চোখে ভেসে উঠল মুগ্ধতা। সেই দিন থেকেই শুরু হলো তার এক নতুন অভ্যাস—অভিকে ই-মেইলে নিজের লেখা পাঠানো। প্রথমে ছোট ছোট কবিতা, তারপর গল্প। অভিনব অবাক হয়ে দেখে—এই তরুণী লেখার ভেতরে অদ্ভুত এক পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি লুকিয়ে রেখেছে।
এক রাতে মেইলের উত্তরে লিখতে গিয়ে অভির মনে প্রশ্ন জাগে— “এই আলাপ কি আমার জীবনের নতুন দিগন্তের শুরু, নাকি কেবল অস্থায়ী সান্ত্বনা?”
অন্যদিকে— সৃজিতা সংসারের ভিড়ে থেকেও একাকীত্বে ডুবে থাকে। দিব্যেন্দুর ব্যস্ততা বেড়েই চলেছে। আর খবরের কাগজে অভির নতুন বইয়ের উৎসর্গপত্র দেখে তার বুক আবার কেঁপে ওঠে— “যারা আমার লেখা পড়ে নিজের জীবনের প্রতিধ্বনি খুঁজে পেয়েছেন, তাদের জন্য।”
সেই লাইন যেন তার অদৃশ্য অতীতকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন