“স্যার,” সে লাজুক গলায় বলল, “আপনার জন্য একটা কবিতা লিখেছি।”
অভিনব খাতা নিলেন। কয়েকটা লাইন পড়তেই তার ভেতর কেঁপে উঠল—
অপরিণত শব্দ, অথচ তাতে অদ্ভুত সত্যের ঝলক।
তিনি তাকালেন ঐশীর দিকে।
“তুমি এত ছোট হয়ে এত গভীরভাবে ভাবো কেমন করে?”
ঐশী হেসে উত্তর দিল,
“আপনার লেখা পড়ে শিখেছি, স্যার। মানুষ যদি নিজের বেদনা লুকিয়ে রাখে, তবে সে কখনও লেখক হতে পারে না। আপনার গল্পগুলো আমাকে সাহস দেয়।”
অভিনব চুপ করে গেলেন।
এই মেয়েটির চোখে যেন তিনি নিজের অতীতের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন—যে চোখ একসময় সৃজিতার ছিল।
কিছুক্ষণ নীরবতার পর ঐশী বলল,
“আপনার জীবনের কোনো চরিত্র কি আমার মতো? মানে, আমি কি কোনোদিন আপনার গল্পে জায়গা পাবো?”
অভিনব হেসে উঠলেন, কিন্তু সেই হাসির ভেতরে চাপা কষ্ট ছিলো।
“প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো গল্পের চরিত্র, ঐশী। তবে সব গল্পের শেষ সুখের হয় না।”
ঐশী খেয়াল করল—অভির চোখ দূরে কোথাও হারিয়ে গেছে।
সে বুঝল, এখানে এমন এক ইতিহাস আছে, যা তার অজানা।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ঐশীর মনে এক প্রতিজ্ঞা জন্ম নিল—
“আমি অভি স্যারের অসমাপ্ত গল্পের অংশ হবো। যেভাবেই হোক।”
অন্যদিকে সেই সন্ধ্যায়—
সৃজিতা আবার একা বসে টিভিতে দেখছে অভির সাক্ষাৎকার। তার বুকের ভেতর অস্থিরতা বাড়ছে।
সে ভাবছে—
“আমি কি সত্যিই ভুল করেছি? নাকি সময়ই আমাকে ভুল প্রমাণ করছে?”
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন