অভি হাসিমুখে বলছে,
“লেখা আমার কাছে শুধু শিল্প নয়, এটা জীবনের আরেক নাম। যেখানে বেদনা-আনন্দ সবই সমানভাবে আশ্রয় খুঁজে পায়।”
এই কথাগুলো শুনেই সৃজিতার বুক কেঁপে ওঠে। তার মনে হয়, এই কথার প্রতিটি অক্ষর যেন শুধু তার জন্যই লেখা।
অন্যদিকে অভিনব—
প্রতিষ্ঠার আলোয় তিনি ঘেরা হলেও নিঃসঙ্গতার ছায়া আরও গাঢ়। অনেক পাঠিকা চিঠি লেখে, কেউ কেউ কাছে আসার চেষ্টাও করে। কিন্তু অভির চোখে সেই মায়াবী আভা আর দেখা যায় না, যা একসময় কেবল সৃজিতার জন্য ছিল। তবুও
বইমেলায় দেখা সেই ক্ষণিকের দৃশ্য, ছোট্ট মেয়েকে কোলে নিয়ে সৃজিতার হাসি—তা ভুলতে পারেন না।
এদিকে দিব্যেন্দু—
তার ব্যবসার ব্যস্ততা যেন সীমাহীন। এক সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেই বিরক্ত মুখে বলে,
“সবসময় আমি কি পারব তোমার সঙ্গে বসে গল্প করতে? ব্যবসাটা ছেলেখেলা নয়।”
সৃজিতা চুপ করে থাকে। সে জানে, উত্তর দিলে সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়বে। কিন্তু নীরবতার মধ্যেই সে বুঝতে পারে—এক অদৃশ্য ব্যবধান তৈরি হচ্ছে, যা কোনওদিনই সহজে ভরাট করা যাবে না।
কয়েকদিন পর—
এক পুরনো বান্ধবী সৃজিতাকে ফোন করে বলে,
“শুনলি? অভি এবার এক সাহিত্য সেমিনারে বক্তব্য রাখবে। যাবি দেখতে? চল আমি আর তুই দেখে আসি, অভির সাথে দেখাও হয়ে যাবে তোর।”
সৃজিতার বুক ধড়ফড় করে ওঠে। সে ভাবে—
“আমি কি যাবো? আমি কি আবার অভির সামনে দাঁড়াতে পারব?”
অভিনবও অন্য প্রান্তে নিজের খাতার পাতায় লিখছে—
“কিছু প্রশ্ন সময়ের কাছে অমীমাংসিত থাকে। হয়তো উত্তরগুলো আমাদের সামনে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করে, শুধু সাহসের অভাবেই আমরা তা খুঁজে পাই না।”
চলবে.....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন