“যদি তোমার লেখা পড়ে তোমার ছাত্রীরাও মানুষ হতে শেখে, তাহলেই সার্থক।”
অভি বাইরে যতই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন, ভিতরে ততই এক নিঃশব্দ শূন্যতা ঘিরে রাখে। সৃজিতার স্মৃতি মুছে যায়নি। তবু তিনি শিখেছেন—আবেগকে কলমে রূপান্তরিত করতে। সেই কলমই তার বেঁচে থাকার ভরসা।
অন্যদিকে সৃজিতা—
দিব্যেন্দুর ব্যবসা দিনে দিনে আরও বড় হচ্ছে, অথচ সংসারে তার উপস্থিতি কমছে। অফিসের কাজ, পার্টি, বিদেশ সফর—এসবই এখন তার নিত্যসঙ্গী। সৃজিতা সারাদিন সন্তানের হাসি-কান্নায় ভরে থাকলেও ভেতরে জমে ওঠে এক অদ্ভুত নিঃসঙ্গতা।
রাতের নির্জনতায় অনেকবার তার মনে পড়ে অভির মুখ।
যখনই সংবাদপত্র বা টিভিতে অভির নাম উঠে আসে, বুকের ভেতর যেন একটা কাঁপন ছড়িয়ে পড়ে।
“যদি আমি অন্য সিদ্ধান্ত নিতাম?”
প্রশ্নটা তাকে কুরে কুরে খেতে থাকে।
একদিন সন্ধ্যায়—
সৃজিতা মেয়েকে নিয়ে বাগবাজারের ঘাটে হাওয়া খেতে গিয়েছিল। সেখানে হঠাৎ এক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা। সে গল্পের ফাঁকে বলে—
“এই তো, কাল বইমেলায় অভিনব গুপ্তর নতুন গল্পগ্রন্থের উদ্বোধন ছিল। ভিড় সামলানোই দায় হয়ে গিয়েছিল।”
সেই মুহূর্তে সৃজিতার বুকের ভেতর ঝড় বয়ে যায়।
সে ভাবে, “অভি কি সত্যিই এত বড় হয়ে গেছে? অথচ আমি তাকে ছেড়ে এক ‘নিশ্চিত ভবিষ্যৎ’-এর পেছনে ছুটেছিলাম।”
অন্যদিকে অভিও বইমেলার একদিন হঠাৎ দেখতে পায়—
দূরে ভিড়ের মধ্যে সৃজিতাকে। কোলে ছোট্ট মেয়ে।
চোখাচোখি হয় না, কিন্তু অভি স্পষ্ট বুঝতে পারে—
এটাই সেই সৃজিতা, যে একসময় তার কবিতা শুনে চোখ ভিজিয়েছিল।
অভি কিছু বলেনি, এগিয়েও যায়নি।
কিন্তু বাড়ি ফিরে খাতার পাতায় লিখে চলে—
"কিছু সম্পর্ক রেলস্টেশনের মতো, যেখানে ট্রেন থামে, মানুষ নামে, আবার চলেও যায়। তবু সেই প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকে অসমাপ্ত গল্পের প্রতিধ্বনি।"
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন