অভি দূর থেকে সব খবর পায়, যদিও কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করে না। ভেতরে যন্ত্রণা তীব্র হলেও বাইরে শান্ত, যেন কিছুই ঘটেনি। কেবল একা রাতে খাতার পাতায় আঁকড়ে ধরে লিখে চলে—নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায়।
বিয়ের পর প্রথম কয়েক মাস সৃজিতা যেন নতুন স্বপ্নের ভিতরে। দিব্যেন্দুর সচ্ছল জীবনযাপন, গাড়ি-বাড়ি, পরিচিত মহল—সবকিছুতেই নতুন অভিজ্ঞতা। বাবা-মা তৃপ্ত, আত্মীয়রা প্রশংসায় ভরিয়ে দেয়।
এক বছরের মাথায় সৃজিতা এক কন্যাসন্তানের মা হয়। সন্তানের মুখ দেখে মনে হয় জীবন পূর্ণতা পেয়েছে। দিব্যেন্দুও খুশি, তবে তার ব্যস্ত ব্যবসার কারণে অধিকাংশ সময় সে অফিসেই ডুবে থাকে।
এই সময়ে অভি সাহিত্য জগতে ধীরে ধীরে নিজের নাম তৈরি করতে শুরু করেছে। টিউশনের পাশাপাশি গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা লিখে পাঠাচ্ছে বিভিন্ন পত্রিকায়। একদিন তার একটি গল্প প্রথম সারির পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
পাড়ার মানুষ গর্বিত, মা-বাবা আনন্দে আপ্লুত, ছোট ভাই ক্যাম্পাসে গিয়ে দাদার নাম বলতেই সম্মান পায়।
অভি বুঝতে পারে—হারানো ভালোবাসা হয়তো আর ফেরানো যাবে না, কিন্তু নিজেকে গড়ে তোলার পথে কোনও থামা নেই।
সন্তান জন্মের প্রায় দেড় বছর পর, যখন সংসারের নতুনত্ব ফিকে হতে শুরু করে, সৃজিতার মনে কিছু প্রশ্ন জেগে ওঠে।
দিব্যেন্দুর ব্যস্ততা আরও বেড়েছে, প্রায়শই রাতে দেরি করে বাড়ি ফেরে। সৃজিতা সারাদিন সন্তানের যত্নে ব্যস্ত থাকলেও নিজের ভেতরে এক অদ্ভুত শূন্যতা টের পায়।
সেই সময় হঠাৎই একদিন চোখে পড়ে—
পত্রিকায় বড় শিরোনামে লেখা:
“অভিনব গুপ্ত: নতুন প্রজন্মের সাহিত্যিক মুখ।”
সৃজিতা স্থির হয়ে যায়।
সে ভাবে—
“এ কি সেই অভি, যে একসময় আমার হাত ধরে বলেছিল—‘তোমার চোখে আমি ভবিষ্যৎ দেখি?’
আমি কি ভুল করেছিলাম?”
চলবে....
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন