রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পর্ব ২২: প্রথম আলাপ

ভোরের আলো জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়েছে। অভি আর ঐশী জানালার পাশে বসে নিঃশব্দে চা খাচ্ছিল। দু’জনের চোখে লাজুক হাসি, মনে নীরব উত্তেজনা।

হঠাৎ দরজায় হালকা টোকা পড়ল।
একটি পরিচিত কণ্ঠ—

অভির মা (বাইরে থেকে):
“অভি, ঘুম ভাঙল নাকি? ভোর হয়ে গেল তো।”

অভি চমকে উঠল। ঐশী কাপে হাত রেখেই স্থির হয়ে গেল। দু’জনের চোখে এক মুহূর্তে একই প্রশ্ন—এখন কী হবে?

অভি আস্তে ফিসফিস করে বলল—
“তুমি ভয় পেও না, ঐশী। আজকের সকালটাই হোক আমাদের সত্যের শুরু।”

সে দরজা খুলল।

দরজা খুলতেই মা দাঁড়িয়ে। হাতে পুজোর থালা, চোখে হালকা অবাক দৃষ্টি। তিনি ঘরে ঢুকেই ঐশীকে দেখলেন। জানালার পাশে বসে থাকা অপরিচিতা মেয়েটিকে দেখে মুহূর্তে চুপ করে গেলেন।

মা (সন্দেহ আর কৌতূহল মিশ্রিত গলায়):
“অভি… এ কে?”

অভি সামলে নিয়ে শান্তভাবে বলল—
“মা, এ ঐশী। আমার জীবনের আলো।”

ঐশী তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াল। দু’হাত জোড় করে তারপর পায়ে দুই হাত দিয়ে প্রণাম করে লাজুকভাবে বলল—
“প্রণাম কাকিমা।”

মায়ের হৃদয়ে নরম সুর

মা চুপচাপ কিছুক্ষণ ঐশীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। মেয়েটির চোখেমুখে ভয় নয়, বরং গভীর আন্তরিকতা। ধীরে এসে ঐশীর হাত ধরে বসলেন পাশে।

মা-
“তুমি তো বেশ মিষ্টি দেখতে আর খুব আচার-বিচার আছে দেখছি।" কিন্তু হঠাৎ এই ভোরবেলায়… অভি, তুই তো আমাদের কিছুই জানাসনি?”

অভি মায়ের দিকে তাকিয়ে একটু মৃদু গলায় বললো —
“মা, আমি চেয়েছিলাম সঠিক সময়ে তোমাকে জানাতে। আজ ভেবেছি লুকোনো নয়, বরং সত্যিটাই প্রকাশ করা দরকার।”

ঐশী মৃদু গলায় যোগ করল—
“কাকিমা, আমি অভিকে হারাতে চাই না। আমি চাই ওর পাশে থাকতে, ওকে সামলাতে। আপনাদের আশীর্বাদ পেলে তবেই এই সম্পর্ক পূর্ণ হবে।”

মায়ের চোখ ধীরে ভিজে উঠল। তিনি আলতো করে ঐশীর মাথায় হাত রাখলেন আর মৃদুস্বরে বললেন "কিন্তু তোমাকে দেখে তো মনে হচ্ছে তুমি অভির থেকে অনেকটা ছোট, এমনকি আমার ছোট ছেলে অরিজের থেকেও অনেক ছোট। আমি কি ঠিক বলছি, অভি?"

অভি কাঁপা গলায় বললো — "হ্যাঁ মা তুমি ঠিক বলছো, ও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।"

মা ঐশীকে বললো -
"তোমার কোনও অসুবিধা নেই তো মা? মানিয়ে নিতে তোমার কোনও অসুবিধা হবে না তো!!"

ঐশী একটু লাজুক হয়ে বললো — "না কাকিমা, আমি সব জেনে বুঝেই এই সম্পর্কে জড়িয়েছি।"

মা (নমনীয় স্বরে)
"তুমি যদি সত্যিই আমার ছেলের সুখ হতে পারো, তবে আমার আশীর্বাদ সবসময় তোমাদের সঙ্গে থাকবে।”

ঐশীর চোখে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। অভি মায়ের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

পরিবারের অন্যরা তখনও অজানা এই বিষয়ে।

মা উঠে দাঁড়ালেন।
“তবে এখন কিছু বলো না বাবাকে। উনি প্রথমে শুনলে একটু রাগ করতে পারেন, ধীরে ধীরে বোঝাতে হবে। আর অরিজ তো এখনও ঘুমোচ্ছে। উঠে সময়মতো অফিসে চলে যাবে। ওকে পরে জানাবো।”

অভি মাথা নাড়ল।
“ঠিক আছে মা। ধীরে ধীরে সব হবে। আজ শুধু চাই তুমি আমাদের পাশে থাকো।”

মা স্নেহভরা দৃষ্টিতে তাকালেন ঐশীর দিকে।
“থাকব বাবা, আর মা, তোমাকে আমি মেয়ে হিসেবেই ভাবতে চাই, বৌমা হিসাবে নয়।”

ঐশী অশ্রু ভেজা হাসি নিয়ে মাথা নাড়ল।

চলবে....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পর্ব ৩৪: অদৃশ্য ফাঁদ

সোমবার বিকেল। অভি একটি কলেজের গেস্ট লেকচার দিয়ে বেরোচ্ছে। হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে এক মেসেজ— “অভি, আজ সন্ধ্যায় আমার সাথে একটু দেখা করো। জরুরি।” ...