কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এখন শুধু ওর লেখা পড়ে না, ওকে নিয়ে আলোচনা করে, ওর ফ্যানস অনেক। ছোট ছোট অনুষ্ঠান, সাহিত্যসভা—সবখানেই অভির ডাক পড়ছে।
ঐশী নিঃশব্দে তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
কখনো প্রুফ দেখে দিচ্ছে, কখনো অনুষ্ঠানের আয়োজন সামলাচ্ছে। তার উপস্থিতিতে অভির ক্লান্তি কমে যায়। একদিন অনুষ্ঠানের পর ঐশী ধীরে বলেছিল—
“অভি, তুমি শুধু লেখক নও, তুমি অনেকের স্বপ্ন। আর আমি চাই, আমি তোমার শক্তি হয়ে থাকি।”
অভি শুধু চুপচাপ তাকিয়ে ছিল, মনে মনে ভেবেছিল—
“যখন সব হারিয়েছিলাম, তখন পাশে কেউ ছিল না। আর আজ যখন উঠে দাঁড়াচ্ছি, তখন ঐশী আছে। এর উত্তর আমি কীভাবে দেব?”
অন্যদিকে, সৃজিতা নিজের সংসারে এক অদ্ভুত অস্থিরতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। দিব্যেন্দুর সাফল্য আছে, কিন্তু তার সঙ্গে সম্পর্ক যেন দূরে সরে গেছে। প্রায়শই রাতের খাবার একা খেতে বসতে হয়। শাশুড়ি অসন্তোষ প্রকাশ করেন -
“মেয়েমানুষদের সংসার আঁকড়ে ধরতে হয় রুমা, খামখেয়ালিপনা মানায় না।”
সৃজিতা জানে, বাইরের চোখে সে ভাগ্যবতী নারী। অথচ ভেতরে শূন্যতা যেন প্রতিদিন বাড়ছে। সেই শূন্যতাকেই বাড়িয়ে দিল এক সন্ধ্যায় পড়া খবর—
অভিনবের নতুন বই প্রকাশের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রথম সারির দৈনিকের বড় রিপোর্ট। ছবিতে দেখা যাচ্ছে হাসিমুখে অভি, পাশেই দাঁড়িয়ে একটি অত্যন্ত সুন্দরী মেয়ে। মনে হচ্ছে যেন খুব ঘনিষ্ঠ।
শিরোনাম: “সাহিত্যের নবপ্রজন্মের শক্তি—অভিনব গুপ্ত।”
সৃজিতার বুক ধক করে উঠল।
“পাশের মেয়েটি আবার কে?”
অজান্তেই ঈর্ষার আগুন ছড়িয়ে পড়ল ভেতরে।
রাতে একা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবল— “আমি কি ভুল মানুষকে বেছে নিয়েছিলাম? না কি আজও অভির জন্য আমার ভেতরে কিছু বেঁচে আছে?”
মেয়ে ঘুমিয়ে আছে। দিব্যেন্দু তখনও ফেরেনি।
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে সৃজিতা নিজের ভেতরে চাপা এক সিদ্ধান্তের আঁচ টের পেল।
চলবে…
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন