সৃজিতার জীবনে এখন বাহ্যিক পূর্ণতার অভাব নেই—শ্বশুরবাড়ির ঐশ্বর্য, দিব্যেন্দুর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা, মেয়ের হাসিমাখা মুখ—সবই আছে। তবু অদ্ভুত এক শূন্যতা তার চারপাশে ছায়া ফেলে রেখেছে।
দিব্যেন্দু প্রায়ই রাত করে বাড়ি ফেরে। কখনো কাজের ব্যস্ততা, কখনো ক্লায়েন্ট মিটিং। সংসারে তার অবদান অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু সম্পর্কের উষ্ণতা যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। রুমা (সৃজিতা) কখনো মনে মনে ভাবে—
“আমার চারপাশে এত মানুষ, এত কোলাহল… তবুও আমি একা কেন?”
মেয়েকে এখন থেকেই একটি প্রি-স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট মজার ছড়া আধো আধো উচ্চারণে 0মুখস্থ করে মাকে শোনায়। সৃজিতা হাসিমুখে শোনে, কিন্তু মাঝে মাঝে বুকের ভেতর চাপা দীর্ঘশ্বাস জেগে ওঠে।
একদিন সকালের কাগজ হাতে নিয়ে বসে থাকতে গিয়ে চোখে পড়ল বড় হেডলাইন—
“অভিনব গুপ্ত: বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের মুখ এবার New India Foundation Fellowship Award এর জন্য নমিনেটেড হয়েছে।”
সাথে ছাপা আছে অভির ছবি—আত্মবিশ্বাসী হাসি, গলায় নতুন প্রজন্মের তুমুল প্রশংসা।
সৃজিতার হাত কেঁপে উঠল।
এই কি সেই অভি, যাকে একসময় নিজের হাত থেকে ছেড়ে দিয়েছিল?
যে অভিকে সে একসময় বলেছিল— “তোমার চোখে আমি ভবিষ্যৎ দেখি”—
সেই অভি আজ ভবিষ্যৎকেই জয় করে নিয়েছে।
সন্ধ্যায় শাশুড়ি বলছিলেন,
“দিব্যেন্দু তো খুব ব্যস্ত, রুমা। সংসারের সব দায়িত্ব তোমার কাঁধে এসে পড়ছে। তবে মেয়েটাকে ঠিক মতো মানুষ করাই তোমার আসল কাজ।”
সৃজিতা চুপচাপ মাথা নাড়ল। বাইরে গৃহবধূ, ভেতরে অস্থির নারী। অভির নাম এখন তার কাছে শুধু অতীতের নয়, বর্তমানেরও প্রতিধ্বনি।
রাতে শুয়ে থাকতে থাকতে সৃজিতা মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করল—
“আমি কি সত্যিই ভুল করেছিলাম? ঐশ্বর্য বেছে নিয়ে কি আমি আমার সত্যিকারের সুখ হারিয়েছি?”
উত্তর মেলেনি।
কেবল জানালার বাইরে অন্ধকার আকাশে যেন হারানো ভালোবাসার ছায়া ভেসে বেড়াচ্ছিল।
চলবে…
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন